-বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী,
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI), আঞ্চলিক কার্যালয়, টাঙ্গাইল। প্রকল্পের অর্থায়নে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার প্রযুক্তি গ্রাম কিসামতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধান রোপণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে “নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন” (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় কৃষিযন্ত্রের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষকের জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাত ব্রি ধান ১০৫-এর চারা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোপণ শুরু হয় । এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, টাঙ্গাইল-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আদিবা আফরিন রিম । তিনি বলেন, " যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা রোপণের মাধ্যমে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি ফসল নিবিড়তা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং পানি ও অন্যান্য সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব । এর মাধ্যমে ধান উৎপাদনে প্রকল্প এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে "। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মো. আবু হানিফ, সিনিয়র মেকানিক, ব্রি-গাজীপুর; কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকবৃন্দ এবং ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, টাঙ্গাইল-এর বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধনবাড়ী উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমাম হাসান (সোহান) সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ । মো. আবু হানিফ রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারের প্রযুক্তিগত সুবিধা, শ্রম ও ব্যয় সাশ্রয় এবং সমান দূরত্বে চারা রোপণের ফলে ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন । ব্রি’র এই কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রকল্পের আওতায় রোপণকৃত জমির জন্য ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার, কীটনাশক ও সাইনবোর্ড বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে । পাশাপাশি প্রযুক্তি গ্রাম কিসামতে আরও ১০৫ (একশত পাঁচ) বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধানের জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও সাইনবোর্ড বিতরণসহ মাটির উর্বরতা ও সুষম সার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে । এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে মোট ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপন করা হয়েছে । এসব প্রযুক্তি গ্রামে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত, উন্নত বীজতলা ব্যবস্থাপনা, সঠিক সময় ও পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন, পানি ও মাটি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই ও আগাছা দমন এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে । প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রযুক্তি গ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত জাত ও প্রযুক্তিকে একীভূত করে গ্রামভিত্তিক একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে ফলন বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কৃষকের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। তাছাড়া, প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার বাস্তব ফলাফল সরাসরি কৃষকের মাঠে দৃশ্যমান হচ্ছে।” ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, টাঙ্গাইল-এর ইনচার্জ ড. মসউদ ইকবাল জানান, “প্রযুক্তি গ্রামের মডেল সফল হলে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে সীমিত আবাদযোগ্য জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি গ্রামভিত্তিক সমন্বিত ধান উৎপাদন মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে ।

Post a Comment