মোঃ জাহিদুল ইসলাম, জয়পুরহাট প্রতিনিধি ১৫ জুন ২০২৬
গুণগতমান উন্নয়ন এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জয়পুরহাট সুগার মিলস লিমিটেডের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “গুণগতমানের আখ উৎপাদন ও আখের একরপ্রতি ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক ও উন্নত কলাকৌশল প্রয়োগে আখ চাষ বিষয়ক খামার দিবস-২০২৬”
সোমবার (১৫ জুন) জয়পুরহাট সুগার মিলসের কৃষি বিভাগের আয়োজনে রাঘবপুর হাজীপাড়া এলাকার সালাম মাস্টারের খোলায় আয়োজিত এ খামার দিবসে শতাধিক আখচাষি, কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ আয়োজনে কৃষকদের আধুনিক আখ চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি, উন্নত জাত নির্বাচন, পরিচর্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)-এর মহাব্যবস্থাপক (মিলস ফার্ম) কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাট সুগার মিলস লিমিটেডের কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুর রউফ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চিনিকলের জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ) মোঃ ইসতিয়াক আহমেদ, জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মোঃ হাবিবুর রহমান, জেনারেল ম্যানেজার (কারখানা) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (সম্প্রসারণ) মোঃ হুমায়ুন কবির, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (সিপি) মাহমুদ গোলাম মোস্তফা, আখচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ আবু তালেব চৌধুরী বাবুসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আখচাষি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
খামার দিবসে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের কোনো বিকল্প নেই। আখ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল হলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত জাতের আখ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সেচ পদ্ধতি, আগাছা ও রোগবালাই দমন এবং বৈজ্ঞানিক পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা বলেন, “আখ চাষকে আরও লাভজনক ও আধুনিক করতে হলে কৃষকদের প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। সঠিক জাত নির্বাচন, সময়মতো সার প্রয়োগ এবং উন্নত পরিচর্যার মাধ্যমে আখের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে যেমন কৃষক লাভবান হবেন, তেমনি দেশের চিনি শিল্পও শক্তিশালী হবে। জয়পুরহাট সুগার মিলস সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রাখবে।”
বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেন, “চিনিকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং উন্নত জাতের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কৃষকবান্ধব এ ধরনের উদ্যোগ আখ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ মোঃ আব্দুর রউফ বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আখ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কৃষকদের মধ্যে প্রযুক্তি গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আখের উৎপাদন ও গুণগতমান উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মাঠ পর্যায়ে আখ চাষের ব্যবহারিক প্রদর্শনী। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উন্নত জাতের আখ নির্বাচন, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ প্রযুক্তি, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন, এবং আধুনিক পরিচর্যা পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ও পরামর্শ প্রদান করেন। কৃষকরা সরাসরি মিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান গ্রহণের সুযোগ পান।
খামার দিবসে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, মাঠভিত্তিক এ ধরনের পরামর্শমূলক কার্যক্রম তাদের আখ চাষে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক কলাকৌশল অনুসরণ করে আখ চাষ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আখের উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের চিনি শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কৃষকবান্ধব কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে।

0 Comments