জয়পুরহাট সদরে আধুনিক প্রযুক্তিতে বোরো ধান চাষে নতুন সম্ভাবনা
ব্রি ধান-১০২ এর বীজ উৎপাদনে কৃষকদের মাঠভিত্তিক প্রযুক্তি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
মোঃ জাহিদুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি :১৮ মে ২০২৬
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠভিত্তিক ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জয়পুরহাট সদর উপজেলার আয়োজনে সোমবার (১৮মে ২০২৬) দিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
“প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নারায়ণপাড়া ব্লকের নারায়ণপাড়া গ্রামে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাফসিয়া জাহান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ পারভেজ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফা খাতুন, নুসরাত জাহানসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে প্রদর্শনীভুক্ত ৬ জন কৃষক ছাড়াও প্রায় ৫০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। মাঠ পর্যায়ে বোরো ধানের আধুনিক চাষাবাদ, রোগবালাই দমন, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, বীজ সংরক্ষণ ও ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নারায়ণপাড়া ব্লকে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফা খাতুন জানান, ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ৬ জন কৃষক ২ একর জমিতে ব্রি ধান-১০২ জাতের কমিউনিটি বেইজড বোরো ধান বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করছেন। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসলের বর্তমান পর্যায় পর্যন্ত কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রদর্শনীভুক্ত কৃষক আব্দুল হাই বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের ধানের বীজ, সার, বীজ সংরক্ষণের পাত্রসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করায় ধানের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আশা করছি এবার ভালো উৎপাদন পাবো।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাফসিয়া জাহান বলেন, “ব্রি ধান-১০২ বোরো মৌসুমের একটি উচ্চ ফলনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত। এর চিকন ও উন্নতমানের চাল বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত বীজ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজ এলাকায় মানসম্মত বীজ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও লাভজনক কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা। মাঠ পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
0 Comments