জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার।
চেক ডিজঅনার মামলার আসমির সাথে নামের মিল থাকায় জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার এক মোটরসাইকেল মেক্যানিক থানায় ১৫ ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগ করছে তার পরিবারের সদস্যরা। ২৩ লক্ষ টাকা চেক ডিজঅনার মামলার ওয়ারেন্ট আসামি ধরতে গিয়ে কালাই থানার এস আই মো.ইউনূস তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
ভুক্তভূগি মোটরসাইকেল মেক্যানিকের নাম সাইফুল ইসলাম (৩৪) পিতা. আব্দুস সামাদ প্রমানিক। তিনি কালাই পৌরসভার বাসিন্দা। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে চাঞ্চ্যেলর সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ও কোট নথি থেকে জানা যায়, পাঁচবিবির মহিরপুর এলাকার সুবর্ণা টেডার্স এর সত্তাধিকারি আইনুল হক সরদারের থেকে নেপচুন জুট মিলের মালিক সাইফুল ইসলামের নিকট থেকে ৫৬ লক্ষ্য টাকা পাওনা হলে তিনি পূবালী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখা ২৩ লক্ষ্য টাকার চেক প্রদান করেন। উক্ত চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে ব্যাংক কতৃপক্ষ প্রত্যাক্ষাণ করে ডিজঅনার করে দেন। পরবর্তীতে সাইফুল ইসলামের ঠিকানায় নিকট আইনগত নোটিশ প্রেরণ করেন এবং সে বাড়িতে না থাকায় নোটিশটি ফেরত আসে। পরবতীতে কোট থেকে ওয়ারেন্ট জারি হইলে কালাই থানা পুলিশ গত (২৮ ফেব্রুয়ারী) শনিবার দিবাগত রাত ১১ টায় জিন্দারপুর ইউনিয়নের বাদাউচ্চ গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাতেই এবং রবিবার সকালে থানায় গিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কেন সাইফুলকে আটক করে তা জানার চেষ্টা করলেও পুলিশ কোন গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবার।
ভুক্তভোগীর মা আজেমন বেগম বলেন, হঠাৎ করেই পুলিশ এসে আমাদের দরজায় নক করলে আমি বাড়ির দরজা খুলে দেয়। পরে সাইফুল ইসলামকে ডেকে দিতে বলে, আমি সাইফুলকে ডেকে দিলে পুলিশ তাকে আটক করে সি.এন.জি করে থানায় নিয়ে আসে। আটকের কারন জানতে চাইলে পুলিশ বলে পাঁচবিবি থেকে চেক দিয়ে টাকা নিয়েছেন তারা মামলা করেছে। তখন আমি পুলিশকে বলেছি আমাদের কোনো ঋণ নেই, আমরা এ মামলার সঙ্গে জড়িত নই। তবুও তারা আমার কথা শোনেনি।
ভুক্তভুগি সাইফুল ইসলাম বলেন, পাঁচবিবির একটি ঋণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে তার কোনো ঋণ তো দূরের কথা, কোনো হিসাব নম্বরও নেই। তিনি অভিযোগ করেন, রাতে তাকে আটক করে থানার লকাপে আটকে রাখা হয়। পরে বেলা ১১ টায় লকাপ থেকে বের করে ওসির সামনে রুমে তাকে রাখা হয়। দুপুর ২টার পর সাদা কাগজে আমার ও আমার মায়ের স্বাক্ষর নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে এস.আই ইউনুসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নামের সাথে মিল থাকায় তাকে আমরা থানায় এনেছি পরে যাচাই-বাছাই শেষ তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
একজন জুট মিলের মালিকের পরিবর্তে একজন সাধারণ মোটরসাইকেল মেকানিককে আটক করায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




Post a Comment