মোঃ জাহিদুল ইসলাম,
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—দেশের কোথাও যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে জামায়াত ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রি করেছে, তাহলে তিনি ও তার দল রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। জামায়াতের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেন।
শনিবার বিকেল ৫টায় শহরের ডা. আবুল কাশেম ময়দানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার এবং জাতীয় পার্টি ২ বার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে তারা পবিত্র কোরআনের কোনো আইন বাস্তবায়ন করেনি। অথচ কোরআনে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার জন্য প্রায় দুই হাজার আয়াত রয়েছে, যেগুলো কেবল মসজিদ ও মাদরাসায় সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। মদিনার ইসলামী রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে পশুর জীবনেরও মূল্য ছিল, অথচ বর্তমান বাংলাদেশে মানুষ হত্যা হলেও বিচার পাওয়া যায় না। তিনি ছাত্রসংগঠন শিবিরকে নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন কটূক্তিমূলক স্লোগানেরও তীব্র নিন্দা জানান।
সুরা হজ্জের ৪১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, যাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা দেওয়া হবে, তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে সালাত কায়েম করা ও যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা। সালাত মানুষের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
বক্তব্যে তিনি জামায়াতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা হবে। নারীরা পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ রেখে দৈনিক ৫ ঘণ্টা কাজ করেও ৮ ঘণ্টার সমপরিমাণ বেতন পাবেন। পাশাপাশি ৫ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।
শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারখানার মোট লাভের ১০ শতাংশ শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন বাধ্যতামূলক করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণে কেবল ভাতা নয়, টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রয়োজনে বিনা সুদে ‘করজে হাসানা’ ঋণ দেওয়া হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং যাকাতভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উপস্থিত জনগণকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় জেলা জামায়াতের আমীর ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন—জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম কিবরিয়া মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারি ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী এসএম রাশেদুল ইসলাম ও হাসিবুল আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মোমিন ফকির, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কবীর, জেলা এবি পার্টির সভাপতি সুলতান মো. শামসুজ্জামান, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং জেলা শিবিরের সভাপতি তারেক ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Post a Comment