জয়পুরহাটে রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হলো মন্দিরের একমাত্র রাস্তা, অবরুদ্ধ আদিবাসী পল্লী—ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসী

 


মোঃ জাহিদুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি ২ মে ২০২৬

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের বেলআমলা এলাকায় গভীর রাতে মন্দিরে যাতায়াত ও আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ এমন ঘটনায় আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে বেলআমলা এলাকার আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। শুধু বসতিপল্লীর যাতায়াতই নয়, প্রাচীন শিবালয় মন্দিরে পূজা-অর্চনার জন্যও এটিই ছিল একমাত্র পথ। অভিযোগ উঠেছে, পাশের জমির মালিক আশরাফুল ইসলাম সাগর ও তার সহযোগীরা রাতের আঁধারে রাস্তার একটি বড় অংশ কেটে নিজেদের জমির সঙ্গে একীভূত করে নেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্রামবাসীরা দেখেন, তাদের চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ। মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা নেই, বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। যেন মুহূর্তেই পুরো এলাকা বন্দিদশায় পরিণত হয়েছে।

শিব মন্দিরের সেবায়েত ললিত মোর বলেন, “এই পথ দিয়েই প্রতিদিন মন্দিরে পূজা-অর্চনা হতো, গ্রামের মানুষও চলাচল করতেন। হঠাৎ করে রাস্তা কেটে দেওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা দিলিপ কর্মকার, শ্যামল কর্মকারসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাস্তা আমাদের জীবনরেখা। এটি কেটে দিয়ে আমাদের যেন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা এখন নিজের গ্রামেই বন্দি। দ্রুত রাস্তা পুনরুদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।”

ঘটনার খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান ও রাস্তা পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দেন।

তবে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তারা অবিলম্বে রাস্তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments