গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জয়পুরহাটে সমাবেশ ও গণমিছিল

মোঃ জাহিদুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

দলীয় জোটের ডাকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার বিকাল ৪ টায় শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দানে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে আমতলী মোড় হয়ে আবারও জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। যা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়পুরহাট–১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাট জেলা শাখার আমীর ফজলুর রহমান সাঈদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমরা কখনো ভাবিনি এত দ্রুত জনগণের দাবিতে রাজপথে নামতে হবে। জনগণ রাস্তায় নামার আগেই দায়িত্বশীলদের উচিত তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। কারণ ইতিহাস সাক্ষী যখনই জনগণ রাজপথে নেমেছে, তারা বিজয় অর্জন করেই ঘরে ফিরেছে। ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” জেলা সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া মন্ডল তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের এই অবস্থান প্রমাণ করে তারা গণতান্ত্রিক চেতনার বিপরীতে গিয়ে স্বৈরাচারী মনোভাব পোষণ করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ আর কোনো স্বৈরাচার মেনে নেবে না।” বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন বলেন, “ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে হলে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। অধিকার আদায়ে সংগ্রাম ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।” তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির জেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসেন বলেন, “ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। যারা জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করবে, তাদের পরিণতিও শুভ হবে না।” তিনি শাসকদের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হাদী বলেন, “দেশের অধিকাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন না করে পুরনো কাঠামো আঁকড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।” সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাসিবুল আলম লিটন, এডভোকেট মামুনুর রশীদ, জেলা অফিস সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান, সদর আমীর মাওলানা ইমরান হোসাইন, সদর নায়েবে আমীর মাওলানা শাহ আলম দেওয়ান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট আসলাম হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও গণদাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

Post a Comment

0 Comments