মাইদুল ইসলাম শফিক, বানারীপাড়া :
বরিশালের বানারীপাড়ায় শীতের আগমনে কাঁচাবাজারে সবজির মোটামুটি সরবরাহ থাকলেও শীতের শুরুতে এর দাম সাধ্যের মধ্যে ছিলো।কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এর দাম অনেক বেড়ে গেছে। অপরদিকে মাছের বাজারে চড়া দামের কারণে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য মাছ কেনা এখন এক প্রকার বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজিতে বাজার এখন ভরপুর অথচ প্রতি কেজি শিম ৪০-৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০-৬০ টাকা বেগুন ৭০ টাকা টমেটো ৬০ - -৭০ টাকা এবং নতুন আলু ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। গত মাসের তুলনায় সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বাজারে রুই, কাতলা থেকে শুরু করে চাষের পাঙ্গাস সহ সব ধরনের মাছের দামই চড়া। রুই ও কাতলা: সাইজভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ: যা 'গরিবের মাছ' হিসেবে পরিচিত তাও এখন কেজিপ্রতি ২২০-২৫০ টাকার নিচে মিলছে না, ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৯০০ টাকায়, চিংড়ি আকারভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি,শোল ৭০০-১০০০ টাকা ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ১৮০ - ৭০০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে করতে এসে বেসরকারি এক চাকুরিজীবী জানান "সবজির দাম কম ছিল একটু ভালো ছিলাম, কিন্তু এখন সবজি ও মাছের বাজারে এসে মাথা ঘুরে যাচ্ছে। এক কেজি ভালো মাছ কিনতে গেলে সারা দিনের বাজারের বাজেটের অর্ধেক টাকা শেষ হয়ে যায়। মাছ এখন আমাদের মতো মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।"
মাছ বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণেই দাম কমছে না। তবে সাধারণ মানুষের মতে, বাজার মনিটরিংয়ের অভাবেই মাছের দাম এভাবে লাগামহীন হয়ে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শীতকালে বিল ও হাওরের মাছ বাজারে আসার কথা থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমিষের চাহিদা মেটাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নির্ভরতা যেখানে মাছের ওপর, সেখানে মাছ ও সবজির উচ্চমূল্য পুষ্টি ঘাটতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Post a Comment