Top News

জয়পুরহাটে চাঞ্চল্যকর পর্নোগ্রাফি মামলায় জালিয়াতি: জামিন নিতে গিয়ে ভুয়া আসামি কারাগারে


 


জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার,

জয়পুরহাটে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলায় আসল আসামির বদলে ভুয়া আসামিকে হাজির করিয়ে জামিন নেওয়ার চেষ্টা—শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে গেছে প্রতারণার এ চক্র। আদালতে হাজিরার সময়ই বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায় এবং বিচারক ভুয়া আসামি মাহফুজুল হককে কারাগারে পাঠান। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানাজানি হলে পাঁচজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা করা হয়।


জানা যায়, মামলার প্রকৃত আসামি জুলফিকার নিপু (পিতা: জয়নাল আবেদীন), মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বগইর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রাজশাহীর রাজপাড়া থানার বহরমপুর এলাকায় বসবাস করেন। অন্যদিকে ভুয়া আসামি হিসেবে হাজির হওয়া মাহফুজুল হক জয়পুরহাট শহরের শাপলানগর এলাকার আব্দুর রহিম মণ্ডলের ছেলে।


অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ-


মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী জুলফিকার নিপুর সঙ্গে জয়পুরহাট সদর উপজেলার এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের আড়ালে সে তরুণীর অন্তরঙ্গ কিছু ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মেয়েটির কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নিপু। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী জয়পুরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলায় ৬ নভেম্বর নিপুর আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসল আসামি এড়িয়ে যায় আদালত—বরং বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মাহফুজুল হককে নিজের পরিচয়ে হাজির হতে ‘ভাড়া’ করেন।


ভুয়া আসামির জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ-

নির্ধারিত দিনে মাহফুজুল নিজেকে জুলফিকার নিপু পরিচয় দিয়ে আদালতে হাজিরা দেন। বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আদালতের নজরে আসে—হাজির হওয়া ব্যক্তি আসল আসামি নন। তখনই পুরো প্রতারণা চক্রের মুখোশ উন্মোচিত হয়।


পরবর্তীতে আদালত মাহফুজুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার পৃথক মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ভুয়া আসামি মাহফুজুল কারাগারে রয়েছেন, আর প্রকৃত আসামি জুলফিকার নিপুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post