এ.এস আব্দুস সামাদ,
শৈলকুপা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। খোদ উপজেলা সদরের বাজারে প্রকাশ্যেই এসব মাংস বিক্রি হলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগের তীর নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই কসাইরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে যে দপ্তর দুইটি এসব তদারকি না করে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি বিষয়গুলো তাদেরকে জানালেও অজ্ঞাত কারণে তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
ক্ষুব্ধ পৌরবাসী ও সচেতন মহল, পৌরসভা এলাকার সাধারণ মানুষ জানান, অসুস্থ ও মৃতপ্রায় গরু জবাই করে তার মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করার পরেও তারা কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উদ্বেগ, অসুস্থ পশুর মাংস খাওয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। চিকিৎসকদের মতে:
অসুস্থ গরুর মাংসে থাকা বিভিন্ন রোগজীবাণু রান্নার পরেও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় না। এই মাংস খেলে দীর্ঘমেয়াদী পেটের রোগ, বিষক্রিয়া (Food Poisoning) অ্যানথ্রাক্স এবং সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন মাংস খেলে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
জনগণের দাবি, উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত এই জনবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দোষী ব্যক্তিদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন।

Post a Comment