Top News

একদিকে প্রচন্ড প্রত্যাশা অপরদিকে আস্থার অভাব: রংপুরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

 


রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর অফিস:


সরকারের ভেতর একটা সংস্কার বিরোধী মনোভাব ক্রমান্বয়ে কোন জায়গা থেকে বের হচ্ছে তো আমরা দেখতে পাচ্ছি বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।


আজ শনিবার নগরীর আরডিআরএস মিলনায়তনে নাগরিক প্লাটফর্ম এর নির্বাচনী উদ্যোগে আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। 


 দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জবাবদিহির বাইরে রাখা অভিযোগ তুলে টিআইবির বিবৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ইফতেখার ভাইয়ের আজকের স্টেটমেন্ট দেখেছেন কিনা। উনি তো মারাত্মক কথা বলেছেন উনি বলেছেন কেবিনেটের মধ্যে সাতজন উপদেষ্টা এটার বিরোধিতা করেছেন। আমরা বাইরের মানুষ তবুও ভিতরের কিছু খবর জানি। এটা খুবই হতাশাব্যঞ্জক বিষয়। 


তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে আছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের পেশাজীবিরা নির্বাচন চায়,ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীরা নির্বাচন চাই নির্বাচন চায়, অন্যান্য ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরা নির্বাচন চায়, বিদেশিরা নির্বাচন চায়। আমরা দেখেছি প্রবাসীরা নির্বাচন চায় এবং আমলাতন্ত্রের ভেতরে যে অস্বস্তি সেটা কাটানোর জন্য তারা নির্বাচন চায়। পুলিশ বলে যে নির্বাচন দরকার শুধু আমাদের কাপড়-জামা বদলালে হবে না। সেনাবাহিনী ও মূল মূল রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন চায়।


যারা নির্বাচন নিয়ে একটু গাইগুঁই করছে তারা আসলে দরকষাকষি করছে। সেতু এই নির্বাচনের দিকে তাকাচ্ছি কিন্তু একইসাথে আবার অদ্ভুত দেখি মানুষের আস্থার খুব ঘাটতি। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে তারা আস্থা পাচ্ছি না। নির্বাচনের পথে সহিংসতা বাড়বে কিনা একইভাবে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে কিনা। 


তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে এইরকম একটা পরিস্থিতি রয়েছে এবং আস্থার ঘাটতি আছে। একটা বৈপরীত্যের মধ্যে অবস্থান করছি একদিকে প্রচন্ড প্রত্যাশা অপরদিকে আস্থার অভাব।


তিনি আরও বলেন, আপনারা মনে করেন এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপের ভিতরে ঢুকতে পারেনি। এবং স্থানীয় পর্যায়ে এটা আরো বেশি আপনাদের ভিতরে এমনকি মিডিয়াও এটি বলছে বলে মনে করি। এই পরিস্থিতিটা আগামী কয়েক ভিতরে কিভাবে কাটবে সেটি এখন দেখার বিষয়। 


দেবপ্রিয় বলেন, আর যে প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আমরা একটা ইস্তেহারের দিকে আগাবো এটা এক দিনের ব্যাপার না এটা অনেক সিরিয়াসলি নিয়ে  প্রতিশ্রুতি হিসেবে নাগরিকদের প্রত্যাশা ও রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি এটা কি আমরা একটা বন্ধনের মধ্যে আনতে চাচ্ছি। যাতে করে তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। তাদের দলের ভিতরে যেন থাকে যৌথভাবে এবং ব্যক্তি হিসেবে তার ভোটারের সাথেও থাকে এটাকে কিভাবে বাধ্য করতে নেওয়া যায় এবং এটার সাথে আমাদের আগামী সংসদ হবে সেই সংসদে কিভাবে প্রতিপালন করা যায় এটা এটার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। 


রিফর্ম ট্রাকারে আমরা কতগুলো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে নিয়ে। সংস্কারের পদক্ষেপ হলে বাস্তবায়িত হলো কি হলো না, তুমি যেমন কমিশন নির্বাচন মিডিয়া ও শ্রম।


এ সময় ড দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সুধীজনের কাছে জানতে চান, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্হা আছে কি না?  সুষ্ঠু হবে কি না? এ সময় অনেকে বলেন, এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় নি। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করছে না।পেশিশক্তির ব্যবহার এখনও হচ্ছে বলে মনে করেন বক্তারা। 


অনুষ্ঠানের শুরুতে দুটি বিষয়ে অনলাইনে মতামত মতামত প্রদান করেন সুধীজন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের  প্রতিনিধি।এ সময়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা এবংউত্তরবঙ্গের বিদেশ যাত্রায় সহজিকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। 

আলোচনার এক পর্যায়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেনজু বলেন, 'দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনকে সেই আস্থার জায়গায় এখনো দেখেনা। ভোটের দিন নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কিনা এ নিয়ে  ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট থাকে তারা বিগত দিনে নিরপেক্ষ থাকতে পারেনি এবং আগামী দিনেও নিরপেক্ষতা রাখার মত কিছু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। নির্বাচন করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর যে কার্যক্রম,আন্তরিকতা ও সমন্বয় থাকা দরকার সে জায়গায় ঘাটতি রয়ে গেছে।


বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড তানজিউল ইসলাম বলেন, 'এমপিদের এলাকায় ৭ দিন থাকার বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে।


হরিজন সম্প্রদায়ের আনোয়ারা ইসলাম রানি বলেন, 'আমাদের এখনও অনেকে ভোট লেখাতে পারেন নি। আলাদা করে দেখা হয়।কোন এনজি আমাদের ভোট লেখার ব্যাপারে কথা বলেন না। 


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিডির ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post